দিঘায় প্লাস্টিক ব্যবহার বেড়াতে গিয়ে করছেন? গুনতে হতে পারে জরিমানা

0
42

কাউন্টডাউন শেষ। শীতের ব্যাটিং শুরু হতেই বড়দিনের ভিড় জমেছে দিঘায়। কিন্তু পর্যটকরা সাবধান। কারণ, খেয়াল না করে জলের বোতল বা চিনে বাদামের প্যাকেট ছুঁড়ে ফেললেই বিপদ। পরিচ্ছন্ন দিঘা, প্লাস্টিকমুক্ত দিঘা গড়তে উন্নয়ন পর্ষদ কিন্তু কড়া নজর রাখছে। দল বেঁধে এসেছেন পিকনিক করতে। সেক্ষেত্রেও পলিব্যাগ, প্লাস্টিকের গ্লাস, থার্মোকলের থালা-বাটি-গ্লাস ব্যবহারের উপরও কড়া নজর রাখছে পর্ষদ। নিয়ম না মেনে প্লাস্টিক ব্যবহার করলে স্বেচ্ছাসেবকরা নিশ্চিত এসে ধরবে আপনাকে। জরিমানাও হতে পারে। ফলে পর্ষদের বার্তা, ফেস্টিভ মুডে দিঘায় আনন্দ করুণ, কিন্তু নোংরা করবেন না।

পয়লা আগস্ট থেকেই দিঘায় প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবার শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি নয়, আগত পর্যটক-সহ পিকনিক পার্টিকে সতর্ক করতে দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে পিকনিক স্পটগুলিতে সচেতনতামূলক বড় বড় হোর্ডিং টাঙানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পিকনিক পার্টির কাছে প্লাস্টিক বা থার্মোকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

কোনও অনিয়ম দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের জরিমানাও করা হতে পারে। তবে দিঘা ছাড়াও মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর পর্যটন কেন্দ্রেও একইভাবে প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

digha-edited

বড়দিন থেকে পয়লা জানুয়ারি। দিঘা ও আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় জমে। পিকনিকের পর ব্যবহৃত প্লাস্টিক, থার্মোকলের সামগ্রী, মুরগির পালক-সহ অন্যান্য বর্জ্য পড়ে থাকে। সেগুলি উড়ে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে। এর ফলে সমুদ্রের জল দূষিত হয় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাই একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ। উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিকনিক করতে আসা বাস-সহ অন্যান্য ট্যুরিস্ট গাড়িগুলিকে দিঘায় হেলিপ্যাড ময়দানের কাছে পার্কিং জোনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈকত লাগোয়া ঝাউবনে যত্রতত্র পিকনিক করা যাবে না। পিকনিক করার জন্য নিউ দিঘার ওসিয়ানা ঘাটের কাছে পিকনিক স্পট নির্দিষ্ট রয়েছে। সেখানে পলিব্যাগ ও থার্মোকলের সামগ্রী ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পিকনিকে ব্যবহৃত নানা সামগ্রী বা অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে দূষণ ছড়ানো হচ্ছে কিনা, তার জন্য সৈকতে উন্নয়ন পর্ষদ নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা ওই দিনগুলিতে নজরদারি চালাবেন। কেউ প্লাস্টিক ও থার্মোকল নিয়ে ঢুকছেন কিনা, তার জন্য দিঘার ওয়েলকাম গেট এবং ওড়িশা বর্ডারের কাছে নজরদারি চালাবেন উন্নয়ন পর্ষদের কর্মীরা।

জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য দেবব্রত দাস বলেন, “আমরা প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পিকনিক স্পটগুলিতে প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহার হচ্ছে কিনা,  সেই ব্যাপারে নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাছাড়া পর্যটক-সহ পিকনিক করতে আসা মানুষজনকে সচেতন করতে দিঘা জুড়ে সর্বত্র হোর্ডিং লাগানো হয়েছে।”