দিঘায় হোটেলের বুকিং একধাক্কায় বাতিল ৬০ শতাংশ

0
32

বর্ষবরণের আগে পর্যটক শূন্য দিঘা। হাতে গোনা কয়েকদিনের অপেক্ষা, তারপরেই পড়বে নতুন বছর ২০২০। ইতিমধ্যেই বড়দিন ঘিরে উৎসবের আবহে ভাসছে আমজনতা। যদিও খাতায় কলমে বড়দিনের এখনও একদিন বাকি। তার আগেই বেশ ছুটি ছুটি মুডে রয়েছে বাঙালি। আর এই সুযোগে ঝটিকা সফরে কাছে-দূরে বেড়িয়ে পরেছে অনেকেই,। তবে ঝটিকা সফরের তালিকায় বাঙালির প্রথম পছন্দের ডেসটিনেশন সৈকত শহর দিঘা। যা এই মরশুমে প্রায় পর্যটক শুন্য হয়ে রয়েছে।

রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হল দিঘা। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়াতে রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় আমুল পরিবর্তন ঘটেছে দিঘায়। নতুন ভাবে সেজে উঠার পর দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছিল অনেকগুন। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং হঠাৎ করে প্রচুর ঠাণ্ডা পড়ায় ভরা মরশুমে প্রায় পর্যটক শুন্য হয়ে পড়েছে দিঘা। যা নিয়ে রীতিমত উষ্মা প্রকাশ করেছে দিঘার হোটেল মালিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ি মহল।হোটেল মালিকদের একাংশের মতে, এনআরসি এবং সিএএ আইনের প্রতিবাদে জেরে গত কয়েকদিন ধরে বাতিল করা হয়েছে বহু দুরপাল্লার ট্রেন। তেমনই থমকে গিয়েছিল লোকাল ট্রেন গুলিও। যার কারনে সৈকতের পর্যটনে ভাটা পড়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর তিনদিনের বাণিজ্য সম্মেলন ছিল। ফলে বেশ কিছুদিন জমজমাট ছিল এই সৈকত শহর। এদিকে সপ্তাহের শেষ শনি-রবিবারকে ঘিরে ফের ভিড়ের আশায় ছিলেন ব্যবসায়ী মহল। সিংহভাগ হোটেলের বুকিংও মিটেছিল।

কিন্তু সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের আন্দোলনের আঁচ ছড়াতেই অধিকাংশ বুকিং বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুই দিঘার ৬০ শতাংশ হোটেলের বুকিং বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিঘা-শঙ্করপুর হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন,”নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দিঘার পর্যটনে। বহু ট্রেন, বাস চলাচল করছে না। যে কারনে পর্যটকরা এখানে আসতে পারছেন না। অনেকেই আবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ দেখে ফিরে গিয়েছেন। প্রায় ৬০ শতাংশ হোটেল বুকিং বাতিল করতে হয়েছে।”এদিকে জনরোষের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রেল ইতিমধ্যেই একাধিক ট্রেন বাতিল ঘোষণা করেছে। অনেক ট্রেন পরিস্থিতি অনুযায়ী চালানো হচ্ছে। গত কয়েক দিনে দিঘার পথে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।